মার্কিন ব্যাংকনোটে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি মুদ্রণের পরিকল্পনা নিশ্চিত করলেন অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ব্যবস্থায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশোতম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ২৫০ ডলারের একটি নতুন ব্যাংকনোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আইন সংশোধন করা প্রয়োজন, কারণ বর্তমানে মার্কিন আইনে কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট জানান, বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের সম্মতির ওপরই নির্ভর করছে এই নোটের প্রচলন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ ব্র্যান্ডন বিচ দেশটির ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিংকে এই মুদ্রার নকশা ও মুদ্রণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাকে সম্মান জানিয়ে নোটটিতে ‘আমেরিকা ২৫০ অ্যানিভার্সারি’ লেখা যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সংবলিত এই নতুন নোট চালুর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে একনায়কসুলভ আচরণের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এর আগে মার্চ মাসে ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত রডনি মিমস কুক জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন ইউএস কমিশন অব ফাইন আর্টস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি খোদাই করা একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরির অনুমতি দিয়েছিল, যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিজের প্রভাব ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন ফেডারেল ভবনে তার প্রতিকৃতি সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে এবং কেনেডি সেন্টারের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানেও তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি আড়াইশোতম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মার্কিন ব্যাংকনোটে প্রথমবারের মতো একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ব্যবহারের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রথাগতভাবে শুধুমাত্র অর্থসচিব ও কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
