সিরিয়া থেকে প্রত্যাবর্তনের পর অস্ট্রেলিয়ায় আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

সিরিয়ার বন্দিশিবির থেকে দীর্ঘ সময় পর দেশে ফেরার পরপরই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক নারীকে অভিযুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই নজরদারিতে ছিলেন। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় অবৈধ প্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত এই নারীকে আগামী বৃহস্পতিবার মেলবোর্নের আদালতে হাজির করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের সহকারী কমিশনার হিলদা সিরেক জানান, অভিযুক্ত ওই নারী ২০১৩ কিংবা ২০১৪ সালে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে কুর্দি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তিনি সপরিবারে আল-হোল বন্দিশিবিরে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগের জন্য তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রজ বন্দিশিবির থেকে চলতি মাসে আরও বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু দেশে ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর তদন্ত আরও জোরদার করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রত্যাবাসন করা সকল প্রাপ্তবয়স্ক নারীই বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি মানেই তদন্ত বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন হিলদা সিরেক।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কাউসার আহমেদ ও জয়নাব আহমেদ নামের মা-মেয়ের বিরুদ্ধে দাসত্ব সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, জানাই সাফার নামের আরেক নারীর বিরুদ্ধে আইএসআইএলে যোগ দেওয়া ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
২০১৫ সালে আইএসআইএল যখন তার ক্ষমতার শীর্ষে ছিল, তখন ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত তারা। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার তাদের ফিরে আসার প্রক্রিয়ায় সরাসরি সহায়তা করেনি। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, নাগরিক হিসেবে অস্ট্রেলীয়দের নিজ দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে যারা তাদের পিতামাতার কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী হতে পারে না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা