একাত্তরের রণাঙ্গনে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ও নতুন দিগন্তের উন্মেষ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী দাবি করেছেন যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই ক্রান্তিলগ্নে যখন দেশের মানুষ দিকনির্দেশনাহীন ছিল, তখন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহম্মেদ বায়েজীদ পান্না মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আমীন সুজন। সভায় অংশ নিয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ১৯৭৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘জাগো দল’ এবং পরবর্তীতে একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি গঠনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।

জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সার্ক গঠনের মাধ্যমে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি চাল, ওষুধ, সিরামিক এবং মাছ রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করেছিল। এছাড়া কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি এবং গ্রাম সরকার গঠনের মাধ্যমে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করেছিলেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, নানা সময়ে নানা কৌশলে বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করা হলেও কোনো অপশক্তিই তা সফল করতে পারেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার দেখানো পথ ধরেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ থেকে দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ও দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালামসহ স্থানীয় বিএনপি ও আইনজীবী সমিতির শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি ও বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু সাঈদ।

0%
0%
0%
0%