ইবোলা সংক্রমণ: আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধের চিত্র

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং উগান্ডায় বিরল ও মরণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এই মহামারি ঠেকাতে কানাডা, বাহামাস ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আক্রান্ত অঞ্চলগুলো থেকে ভ্রমণকারীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত কঙ্গোতে ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ২২০ জন আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়াও দেশটিতে ৯০০ জনের বেশি সম্ভাব্য আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে, অন্যদিকে উগান্ডাতেও পাঁচজন আক্রান্ত ও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গোর জাতীয় পর্যায়ের ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ থেকে ‘অতি উচ্চ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে কঙ্গো সরকার দেশটির বুনিয়া অঞ্চলের সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যদিও মানবিক ও জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ অনুমতির সুযোগ রাখা হয়েছে। উগান্ডাও কঙ্গোর সঙ্গে তাদের সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের বাস ও নৌযান চলাচল চার সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতে সাপ্তাহিক বাজার বসাতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কানাডা ও বাহামাস জানিয়েছে, তারা কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা বাসিন্দাদের ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কানাডা সরকার জানিয়েছে, আগামী ৯০ দিন এই দেশগুলোর বাসিন্দারা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না এবং দেশটির নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের আক্রান্ত এলাকা থেকে ফেরার পর ২১ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বাহামাস সরকার ৩০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, যা পরিস্থিতি সাপেক্ষে পুনর্বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে অ-নাগরিকদের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তা শুক্রবার গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও প্রসারিত করেছে। আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ফেরা মার্কিন নাগরিকদের জন্য ওয়াশিংটন ডুলেস, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা এবং জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরের মাধ্যমে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে উন্নত স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কেনিয়াতে একটি কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস স্বীকার করেছেন যে, প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করতে দেরি হওয়ায় ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, ইবোলা দমনে প্রয়োজনীয় কৌশল এবং অভিজ্ঞতার অভাব নেই তাদের। ইতিমধ্যে সব ধরনের বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিও অচিরেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন বা আইসিএও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আপাতত নিরাপদ। তারা সীমান্ত বন্ধ না করে বরং আক্রান্ত দেশগুলোতে যাত্রীদের প্রস্থানকালীন স্ক্রিনিং জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা না চাপিয়ে ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র ও স্পর্শহীন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো আন্তর্জাতিক প্রটোকলগুলো মেনে চলা জরুরি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%