শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে মোদী সরকারের ধাক্কা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে জল্পনা

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ভারতের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের আপাত সমাপ্তি ঘটেছে। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটে সপ্তাহব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির পর গত শনিবার আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই ঘটনা এক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তার ‘দৃঢ় নেতা’ ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করেছে।
আন্দোলনরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং সরকারের মধ্যকার সমঝোতা অনুযায়ী, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রতিটি পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি বা প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দাবি করলেও, সরকার বিদ্যমান নিয়মে ‘সর্বোচ্চ সম্ভব’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া সরকার বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
তবে সরকারি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও দেশজুড়ে ধরপাকড় ও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম বাংলা ও আসামে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে এবং বিহারে পুলিশের গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। যদিও সরকার ও সিজেপি নেতাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, তবুও ২০শে জুলাই পুলিশি হামলার ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার দাবি অমীমাংসিতই থেকে গেছে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা দায়ী পুলিশ সদস্যদের আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
সিজেপি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, এটি কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়, বরং তারা সংগঠিত হওয়ার জন্য সময় নিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি নেতাদের রাজনৈতিক কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, যার ফলে তাদের আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট। তবে সংগঠনের মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর জানিয়েছেন, তারা শিক্ষার পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ইস্যু নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে, বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করার সুযোগ ছাড়ছে না। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ২০শে জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহিতা ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে নতুন প্রজন্মের বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা