মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা তেহরানের, কঠোর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যখন কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির আভাস মিলছিল, ঠিক তখনই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের বেশ কিছু নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তেহরান এই আক্রমণকে এপ্রিলে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়েদ মজিদ মুসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন, শত্রুর সঙ্গে আলোচনা কেবলই ক্ষতির কারণ। তিনি আরও জানান, ইরানের কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং তারা শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
এরই মধ্যে দোহায় কাতার ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ এ বিষয়ে পরামর্শ শেষে দেশে ফিরেছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, বিদেশে আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করাই এই সমঝোতার প্রধান অন্তরায়। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালীতে ৩০ দিন নির্বিঘ্নে নৌ চলাচল এবং কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। দোহা আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও ট্রাম্প নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে, ভারতের জয়পুর থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালী সচল রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, নিজস্ব সেনাদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই নতুন হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
অস্থির এই সময়ে ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইল বা ১১১ কিলোমিটার দূরে একটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। বিস্ফোরণে ট্যাঙ্কারটির পার্শ্বদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। লেবাননের মাশগারা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি বানচাল করতে এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে লেবাননে সংঘাত ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন যদি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যেকোনো শান্তি প্রচেষ্টা অত্যন্ত নড়বড়ে থেকে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
