যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অবস্থিত ডিলানি হল ডিটেনশন সেন্টারের বাইরে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে ফেডারেল কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত রাসায়নিক স্প্রে করেন এবং বলপ্রয়োগ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালান। অভিবাসীদের চলমান অনশন ও কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে টানা পঞ্চম দিনের মতো এই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাগারে বন্দিদের ওপর অমানবিক আচরণ, মানহীন খাবার, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা এবং দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন বন্দি অনশন ও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস কর্তৃপক্ষ এমন কোনো আন্দোলনের অস্তিত্বই অস্বীকার করেছে।
ডিলানি হল নামের এই কারাগারটি পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপ। গত মে মাসে আইসের সঙ্গে চুক্তির পর কারাগারটি ফের চালু করা হয়। বন্দিদের অভিযোগ, কারাগারের ভেতরে কৃমিযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সেখানে কোনো যথাযথ বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং চিকিৎসা অবহেলার কারণে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া কয়েকজন বন্দি জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকলেও কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রেও নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইস কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে নিরাপত্তা রক্ষীরা এক বিক্ষোভকারীকে ধাওয়া করে এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র বা টেজার ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত সাতজন সাংবাদিক নিরাপত্তা বাহিনীর স্প্রে-র শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিক্ষোভকারীরা যখন স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন দফায় দফায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
নিউজার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিমসহ ডেমোক্রেটিক দলীয় বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা কারাগারের ভেতরের অবস্থাকে ‘অমানবিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অ্যান্ডি কিম এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টে জানিয়েছেন যে, সেখানে গর্ভবতী নারী বন্দিরা যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন না। এমনকি কারাগারে গর্ভপাতের মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আইসের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কারাগারের ভেতরে আটকদের ভাষ্যমতে, যতক্ষণ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি দেখার সুযোগ না দেওয়া হবে, ততক্ষণ তাদের অনশন ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। এদিকে, কারাগারের বাইরে বিক্ষোভের অজুহাতে বন্দিদের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ট্যাবলেটগুলোও জব্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিউজার্সি অ্যালায়েন্স ফর ইমিগ্র্যান্ট জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক অ্যামি টরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জনসম্মুখে এমন আচরণ করলে, কারাগারের ভেতরে বন্দিদের সঙ্গে তারা কী পরিমাণ নির্যাতন চালাচ্ছেন তা সহজেই অনুমেয়।