প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন অভিযান: মাদকবিরোধী লড়াইয়ে দুই জন নিহত, মোট প্রাণহানি দুই শ ছুঁইছুঁই

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের ভাষ্যমতে, একটি মাদক পাচারকারী নৌকাকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে টানা দুই দিনে দুটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় অঞ্চলটিতে চরম উত্তজনা ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এএফপির তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামক এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযানের সময় নৌকাটি একটি পরিচিত চোরাচালান পথ দিয়ে যাচ্ছিল এবং সেখানে অবস্থানরত দুই ব্যক্তিকে তারা ‘নারকো-টেরোরিস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার চালানো আরও একটি হামলায় দুজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সাউদার্ন কমান্ডের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা পানিতে আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সপক্ষে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি অস্পষ্ট সাদা-কালো ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নৌকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, ল্যাটিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এক প্রকার যুদ্ধ করছে। তবে এই অভিযানে আক্রান্ত নৌকাগুলো প্রকৃতপক্ষে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে জোরালো কোনো প্রমাণ এ পর্যন্ত উপস্থাপন করতে পারেনি প্রশাসন।

মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই সামরিক কৌশল নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, কোনো প্রকার বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে। মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানের বৈধতা ও এর মানবিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

০%
০%
০%
০%