সঞ্চয়পত্রের বিদ্যমান মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের

দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে সঞ্চয়পত্রের বর্তমান মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদ ভবনে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত বিদ্যমান মুনাফার হারই বহাল থাকবে। সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই হার পুনর্নির্ধারণ করা হলেও, মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার হার কমানোর পথ থেকে সরে এসেছে।

অর্থমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মুনাফার হার হ্রাস করা হলে সরকারি কোষাগারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতো, তবে জনস্বার্থ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জীবনধারণের প্রয়োজনে সরকার তা করেনি। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে মুনাফার হার কিছুটা কমিয়েছিল এবং নিয়মিত পর্যালোচনার নীতি গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন স্কিমে বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে এবং এর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার কিছুটা কম কার্যকর হয়। এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদি হিসাবে মুনাফার এই স্তরবিন্যাস প্রযোজ্য। ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের পূর্বে এই হার ১২ শতাংশের উপরে থাকলেও বর্তমান কাঠামোটি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী আয়ের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে।

এদিকে কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর্তন করা উৎসে করকে আর চূড়ান্ত দায় হিসেবে গণ্য করা হবে না। বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীর করযোগ্য আয় না থাকলেও বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যেসব বিনিয়োগকারীর টিআইএন নেই, তাদের এখন রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে টিআইএন গ্রহণ করতে হবে এবং কর কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ১২০ দিনের মধ্যে সেই অর্থ ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেবেন।

এই পদ্ধতির ফলে যে সকল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু অগ্রিম করের বোঝা বহন করছিলেন, তারা এখন অর্থ ফেরত পাওয়ার আইনি অধিকার অর্জন করলেন। যদিও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক সদস্য এতদিন টিআইএন ছাড়াই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে আসছিলেন, তবে নতুন এই কর সমন্বয় পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়কারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

০%
০%
০%
০%