টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ অনেকের কাছেই বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। তবে ওভালে বৃহস্পতিবারের মহারণে ফেভারিটের তকমা গায়ে মাখতে ইংল্যান্ড যে খুব একটা আগ্রহী নয়, সেটি মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। কেননা এই দক্ষিণ আফ্রিকা দল কঠিন সময়ে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছে। টুর্নামেন্টের ৫টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতেই জয় তুলে নিয়েছে তারা, যদিও পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়গুলো খুব একটা দাপুটে ছিল না। এমনকি তুলনামূলক দুর্বল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় পেতেও ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। কেবল ভারতের বিপক্ষেই তারা সেই ছন্দময় ক্রিকেট খেলেছে, যেখানে ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল প্রোটিয়ারা।
দলের অধিনায়ক লরা ওলভার্ট বুধবার সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এখনো নিজেদের সেরা ফর্মে না থেকেও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছি, এটিই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। কিছু ম্যাচে জেতাটা কঠিন মনে হলেও শেষ পর্যন্ত আমরা পয়েন্ট তুলে নিয়েছি। নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং ভবিষ্যতে ম্যাচগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করব। মজার বিষয় হলো, দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ওলভার্ট নিজেই চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো অর্ধশতকের দেখা পাননি। এপ্রিল মাসে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দুর্দান্ত ফর্মের তুলনায় এবারের পারফরম্যান্সে কিছুটা হতাশ হলেও তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, ব্যাটিংয়ের কৌশল তিনি ভুলে যাননি।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দল কোনো ম্যাচ না হেরেই দাপটের সাথে নকআউট পর্বে পা রেখেছে। তাদের প্রতিটি জয়ই ছিল বড় ব্যবধানে। চোট কাটিয়ে ন্যাট সিভার-ব্রান্টের ফেরা ইংল্যান্ডের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিজ দেশের মাটিতে ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ডের শিবিরে সিভার-ব্রান্ট জানিয়েছেন, পরিচিত দর্শকদের সামনে এবং ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি প্রেরণা তারা কাজে লাগাতে চান। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ড্যানি ওয়াট-হজ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে দারুণ ছন্দে আছেন। বোলিংয়ে মারিজান ক্যাপ ও সোফি একলেস্টোনের লড়াইটি বেশ সমানে সমান হলেও দলীয় সংহতিতে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে।
তবে ক্রিকেট মাঠে পরিসংখ্যান সবসময় ভাগ্যের সঙ্গী হয় না। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৩ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইংল্যান্ডের পরাজয়ের ইতিহাস আছে। টানা জিতে আসা ইংল্যান্ডের জন্য লড়াকু মানসিকতার প্রোটিয়ারা যে কোনো সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড শক্তিশালী হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই করার সক্ষমতাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ওভালের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, সেটি দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।