বাংলা কিউআর লেনদেনে ন্যূনতম ১ শতাংশ মাশুল নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার মূল্য গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আর্থিক নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের ন্যূনতম ১ শতাংশ হারে মাশুল বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) পরিশোধ করতে হবে। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতাধীন বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ এই ১ শতাংশ মাশুল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জারি করা পরিপত্রের মাধ্যমে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), বাংলা কিউআর ও ই-কমার্স লেনদেনের জন্য চার্জের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশনায় আগের সেই শর্তাবলি বহাল রেখে পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম খরচের এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব, ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডসহ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন থেকে অ্যাকোয়ারিং ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ন্যূনতম এই ১ শতাংশ মাশুল আদায় করবে। তবে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ও গ্রাহক আকর্ষণের প্রয়োজনে কোনো অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রচারণামূলক ছাড় দেওয়ার সুযোগ পাবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়বে। আগে অনেক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান মার্চেন্টদের কাছ থেকে শূন্য থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে নমনীয় হারে মাশুল নিত। এখন নতুন এই ন্যূনতম হারের কারণে যেসব মার্চেন্ট এতদিন ১ শতাংশের কম খরচে লেনদেন করতেন, তাঁরা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ ব্যাংকাররাই। ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে অধিকতর সুশৃঙ্খল ও টেকসই করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন নীতি গ্রহণ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

০%
০%
০%
০%