শীর্ষ এআই সংস্থায় সরকারের মালিকানা চেয়ে স্যাম অল্টম্যানের প্রস্তাব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের অভাবনীয় বিকাশের যুগে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ককে নতুন রূপ দিতে এক যুগান্তকারী প্রস্তাব দিয়েছেন ওপেনএআই-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান। ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অল্টম্যান প্রস্তাব করেছেন যে ওপেনএআই-সহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলোতে সরকারের ৫ শতাংশ মালিকানা বা ইক্যুইটি থাকা উচিত। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, এআই শিল্পের বিপুল আর্থিক মুনাফার একটি অংশ সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করা।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সরকার-সমর্থিত বিনিয়োগ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ওপেনএআই-এর শীর্ষ আধিকারিকরা। এই তহবিলের মাধ্যমে ওপেনএআই ছাড়াও অ্যানথ্রপিক, গুগল এবং মেটার মতো প্রভাবশালী সংস্থাগুলোতে ৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব অর্জনের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

ইতিমধ্যে স্যাম অল্টম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট নেতা ও সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে যে বিপুল সম্পদ তৈরি হচ্ছে, তা যাতে কেবল বেসরকারি করপোরেট সংস্থার কুক্ষিগত না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, এর আগেও ওপেনএআই ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’ এবং অ্যানথ্রপিক ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’-এর মতো জনকল্যাণমুখী ধারণার কথা উল্লেখ করেছিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় সম্ভাব্য সব পথ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এআই খাতের মুনাফায় নাগরিক অংশীদারিত্বের এই বিতর্কটি মার্কিন নীতি-নির্ধারণী মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক সংস্থাটি বিতর্কের মুখে পড়েছিল। গত ১২ জুন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য সংস্থাটির এআই মডেলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার নির্দেশ দেয়। অ্যামাজনের গবেষকরা ফেবল ৫ মডেলের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের সম্পর্ক আগে থেকেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল, কারণ গণ-নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করে সংস্থাটি পেন্টাগনের চুক্তি থেকে সরে এসেছিল।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই উদ্বেগ নিরসনের পর বর্তমানে ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ মডেল পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের বিশেষ অনুরোধে তাদের নতুন জিটিপি-৫.৬ মডেলের উন্মুক্ত প্রকাশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে মডেলটির ব্যবহার কেবল নির্বাচিত ও যাচাইকৃত অংশীদারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

০%
০%
০%
০%