ই জিন ক্যারলের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের ফৌজদারি তদন্ত শুরু

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা লেখক ই জ্যঁ ক্যারলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮২ বছর বয়সী ক্যারল ২০২২ সালের দেওয়ানি মামলার জবানবন্দিতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সরকারি আইনজীবীরা। ওই জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছিলেন, আইনি লড়াই চালানোর জন্য তিনি বাইরে থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা নেননি।

ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর বিচার শুরু হওয়ার ঠিক আগে ক্যারলের আইনজীবীরা আদালত ও ট্রাম্পের আইনি দলকে জানান যে, লিংকডইন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিলিওনেয়ার রিড হফম্যানের অর্থায়নে পরিচালিত একটি অলাভজনক সংস্থা তার আইনি খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ের কিছু অংশ বহন করেছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা অভিযোগ তোলেন, ক্যারল হফম্যানের অর্থায়নের বিষয়টি গোপন করেছিলেন এবং এই বিভ্রান্তিকর তথ্য তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে ক্যারলের আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, ওই অলাভজনক সংস্থার কারও সঙ্গে ক্যারলের সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ বা কথাবার্তা হয়নি।

২০২৪ সালে নিউইয়র্কের একটি তিন সদস্যের ফেডারেল আপিল আদালত ক্যারল মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন—ট্রাম্পের এমন দাবি খারিজ করে দেন। এর আগে ২০১৯ সালে প্রকাশিত নিজের বই ‘হোয়াট ডু উই নিড মেন ফর’-এ ক্যারল দাবি করেছিলেন, নব্বইয়ের দশকে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিংরুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং ক্যারলকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যুক’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি ট্রাম্পের পছন্দের নন।

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় জুরি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীকালে আরেকটি মানহানি মামলায় জুরি ট্রাম্পকে ৮৩ মিলিয়ন ডলার প্রদানের দণ্ড দেয়, যার উভয়টির বিরুদ্ধেই ট্রাম্প আপিল করেছেন। সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগের এই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, কারণ তিনি পূর্বে ট্রাম্পের পক্ষে আইনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্যারলের বিরুদ্ধে এই ফেডারেল তদন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগেও এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমি, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতা অ্যাডাম শিফ ও ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্ত চালানো হয়েছে। যদিও সেসব তদন্তে এখন পর্যন্ত কাউকে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে মার্কিন বিচার বিভাগ বা ক্যারলের আইনি প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

০%
০%
০%
০%