ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের লভ্যাংশের ওপর শতভাগ কর আরোপের ঘোষণা নিউসামের

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের তথাকথিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ বা ‘অস্ত্রায়ন বিরোধী তহবিল’ অকার্যকর করতে এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত তহবিল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো বাসিন্দা অর্থ গ্রহণ করলে তার ওপর ১০০ শতাংশ কর আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর। নিজের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের ঘোষিত তহবিল থেকে সুবিধাভোগীদের অর্থের পুরোটাই সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।

গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ‘লফেয়ার’ বা আইনগত অপব্যবহারের শিকার দাবিদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিশাল তহবিলের ঘোষণা দেয়। তবে ঠিক কারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন, তা নিয়ে রয়ে গেছে ধোঁয়াশা। মূলত ট্রাম্প এবং ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) মধ্যে হওয়া এক আইনি নিষ্পত্তির ফসল এই তহবিল। উল্লেখ্য, নিজের ফাঁস হওয়া কর নথি নিয়ে ট্রাম্প আইআরএস-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

সমালোচকদের মতে, এই তহবিলটি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের আর্থিকভাবে লাভবান করার এক অপকৌশল মাত্র। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরাও এই তহবিলের সুবিধাভোগী হতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই দাঙ্গাকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে এবং তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ক্ষমাও করা হয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে গ্যাভিন নিউসাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে চায়, তারা করদাতাদের টাকায় কোনো ধরনের সুবিধা পেতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি এই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তার এই পদক্ষেপ ক্যালিফোর্নিয়া ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতাকে আরও তীব্র করে তুলল।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিলের দেখভাল করবে। সাধারণত আদালতে রায় হওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত তহবিল থেকেই এই বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের দাবি, অতীতে ঘটে যাওয়া অবিচারের প্রতিকার করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি প্রান্তিকে সুবিধাভোগীদের তালিকা ও অর্থের পরিমাণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দেওয়া হবে। আগামী ২০২৮ সালের ১ ডিসেম্বরের পর আর কোনো দাবি গ্রহণ করা হবে না এবং অবশিষ্ট অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ফেরত যাবে। তবে গভর্নর নিউসামের প্রস্তাবিত নতুন করের বিষয়ে বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

০%
০%
০%
০%