যৌন অসদাচরণের তদন্ত নিয়ে কেলেঙ্কারি: মিনিয়াপোলিসের পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা পদত্যাগ করেছেন। একটি তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ও’হারার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান যে, পুলিশ প্রধানের ওপর তিনি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রায়ান ও’হারার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত না হলেও, তদন্তকারীদের ধারণা তিনি গত বছর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে তার মুঠোফোন থেকে তথ্য মুছে ফেলেছিলেন। মেয়র ফ্রে এই ঘটনাকে 'বিশ্বাসের চরম লঙ্ঘন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, পুলিশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সততার বিকল্প নেই এবং এই অনৈতিক আচরণের কারণে ও’হারার পক্ষে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ইতিপূর্বে ও’হারার কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগের জন্য মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু নতুন করে আসা এই তদন্ত প্রতিবেদন মেয়রের অবস্থান বদলে দেয়। ও’হারাকে লেখা একটি চিঠিতে মেয়র উল্লেখ করেন যে, এই কর্মকাণ্ড তার দুর্বল বিচারবুদ্ধি ও অনৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ, যা তাকে এই পদে থাকার অনুপযুক্ত করেছে। বর্তমানে ও’হারার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে সহকারী পুলিশ প্রধান কেটি ব্ল্যাকওয়েলকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থায়ীভাবে পুলিশ প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়ায় তিনিও একজন অন্যতম প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। ও’হারা ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের জেরে বিপর্যস্ত মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানোর গুরুদায়িত্ব নিয়েছিলেন।

দায়িত্ব পালনকালে ব্রায়ান ও’হারা শহরের অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে দায়িত্বকালীন বেশ কিছু ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে গত জুন মাসে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা মেলিসা হর্টম্যান ও তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো তার সময়কালেই ঘটে। শেষ পর্যন্ত একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে নাম জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ও’হারার সংক্ষিপ্ত ও ঘটনাবহুল অধ্যায় সমাপ্ত হলো।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

০%
০%
০%
০%