আমেরিকা ছাড়ার হাতছানি জয় করে প্রোটিয়া তারকা হয়ে ফেরার গল্পে ম্যাথু ব্রিজকির রূপকথা

একসময় ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তায় দিশেহারা ম্যাথিউ ব্রিৎজকে বাঁচার তাগিদে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে নিজের ওপর আস্থা রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে টিকে থাকার যে সাহসী সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, আজ তা এক দারুণ সফলতার গল্প হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে যখন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন মাত্র ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের সামনে মেজর লিগ ক্রিকেটে যোগ দেওয়ার হাতছানি ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে বছরে মাত্র ৮ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের বিপরীতে আমেরিকার লিগটি তাকে ৫০ হাজার ডলারের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল।
তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট অবকাঠামো ছিল নড়বড়ে। বর্ণবৈষম্য নিয়ে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক সংকটে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা যখন মুখ থুবড়ে পড়েছিল, তখন বহু প্রতিভাবান ক্রিকেটার দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেই সময়ে ব্রিৎজকের পারফরম্যান্সও আহামরি ছিল না; প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার গড় ছিল মাত্র ৩০। তবে সব অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে তিনি নিজ দেশে থেকে যাওয়ার কঠিন পথটিই বেছে নেন। তার এই দৃঢ় সংকল্পই তাকে আজকের বিশ্বমানের ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২১-২২ মৌসুম থেকে ব্রিৎজকের খেলায় এক অভাবনীয় রূপান্তর ঘটে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার গড় বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩-এ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার গড় এখন ৩২ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৫-এ পৌঁছেছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ১৫০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে তিনি জানান দিয়েছেন তার সক্ষমতার কথা। এখন পর্যন্ত ১১টি ওয়ানডে ইনিংসে ৬৯ গড়ে রান সংগ্রহ করে ৬টি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন তিনি।
তার এই উত্থানের পথচলা শেষ পর্যন্ত স্বপ্নপূরণ করেছে প্রোটিয়াদের জার্সিতে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে নিয়মিত মুখ ব্রিৎজকে ২০২৫ সালে আইপিএলে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। যে লিগটিতে একসময় শরণার্থী হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন, সেই মেজর লিগ ক্রিকেটে এখন তিনি খেলছেন একজন প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে। সম্প্রতি সিয়াটল ওরকাসের হয়ে ওয়াশিংটন ফ্রিডমের বিপক্ষে ২১৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৬৬ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন, ভাগ্য নয় বরং পরিশ্রমই তাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে এসেছে। জীবনের এই চক্র যেন এক কাব্যিক সমাপ্তি টানল—একসময় যা ছিল বাঁচার তাগিদ, আজ তা তার সফল ক্যারিয়ারের অনন্য এক সংযোজন।
