ফিফার বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে টেইলগেটিং-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা: বাস্তবতা কী?

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আয়োজকদের বিরুদ্ধে এক নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্টেডিয়ামের বাইরে ‘টেইলগেটিং’ অর্থাৎ খেলা শুরুর আগে সমর্থকদের গাড়ি পার্ক করে সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডার ঐতিহ্যবাহী রীতি নিষিদ্ধ করার খবরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ক্রীড়াযজ্ঞের সহ-আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই ১৬টি শহরের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভেন্যু এবং মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যেই টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম এবং আয়োজকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের সুর চড়া হয়েছে।
‘টেইলগেটিং’ শব্দটি সাধারণত অন্য গাড়ির খুব কাছ থেকে অনুসরণ করাকে বোঝালেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে এর অর্থ ভিন্ন। এখানে এটি খেলা শুরুর আগে এক সামাজিক আয়োজন, যেখানে সমর্থকরা স্টেডিয়ামের বাইরে নিজেদের গাড়ি পার্ক করে সেখানে জড়ো হন। তারা খাবার ও পানীয় গ্রহণ করেন, এমনকি অনেকে রান্নারও আয়োজন করেন, যা স্টেডিয়ামের ভেতরের উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) ম্যাচগুলোতে এই রীতি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে ‘টেইলগেটিং’ বলতে সাধারণত টিকিটধারী ব্যক্তিদের অনুসরণ করে অবৈধভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা বোঝায়, যা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ফিফা কর্তৃক বিশ্বকাপ ভেন্যুতে ‘টেইলগেটিং’ নিষিদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। যদিও ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ‘টেইলগেটিং’ বিষয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে, তারা আরও জানিয়েছে যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে জননিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ভেন্যুতে এর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সমর্থক তাদের এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক রীতিকে বিশ্বব্যাপী ফুটবল ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে ব্যাখ্যা করছেন। ফিলাডেলফিয়ার মতো কিছু শহরে ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, ‘টেইলগেটিং’ বন্ধ করা অসম্ভব। তাদের মতে, এটি এক অকৃত্রিম আমেরিকান অভিজ্ঞতা, যা বিশ্বকাপ দেখতে আসা আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও উপভোগ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। গত বছর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের স্টেডিয়ামের বাইরে এই রীতির আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে।
বিশ্বকাপের সময় ফিফা স্টেডিয়ামগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং স্থানীয় আয়োজক কমিটির সাথে নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বড় টুর্নামেন্টে ব্যবহৃত স্টেডিয়ামগুলোর দুটি “সুরক্ষিত পরিধি” থাকতে হয় – বাইরের পরিধি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং ভেতরের পরিধি টিকিট যাচাই ও অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই পরিধিগুলো কোথায় চিহ্নিত করা হবে, তা নির্ভর করে স্টেডিয়ামের অবস্থান, পার্কিংয়ের সুবিধা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর।
পূর্ববর্তী টুর্নামেন্টগুলোর মতো, স্থানীয় আয়োজক ও কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে যে ‘টেইলগেটিং’-এর মতো কার্যক্রম অনুমোদিত হবে কিনা, যা টুর্নামেন্টের কাছাকাছি সময়েই জানানো হতে পারে। তবে, বস্টন আয়োজক কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই আয়োজনে ‘টেইলগেটিং’ নিষিদ্ধ।
ফিফার সাথে যুক্ত নয় এমন ব্র্যান্ডগুলোর প্রচার রোধে, আয়োজকরা টুর্নামেন্টের সময় স্টেডিয়ামগুলোর নাম পরিবর্তন করে আয়োজক শহরের নামে নামকরণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে আগামী ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডের সোফাই স্টেডিয়ামে, যা ‘লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত হবে। অন্যদিকে, ১৯ জুলাই ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যা ‘নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা