এশিয়ান কাপ থেকে ছিটকে ভারত ফিফা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখনো সুদূরপরাহত

আগামী এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ভারতের বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন এখন সুদূরপরাহত। ২০৩০ কিংবা ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ভারতের অংশগ্রহণ কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৪৫ কোটি মানুষের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮তম অবস্থানে থাকা ভারতকে এখন লড়তে হচ্ছে গভীর পদ্ধতিগত সংকট আর সংস্কারের ব্যর্থতার সাথে।

বিজ্ঞাপন

সান ফ্রান্সিসকো প্রবাসী সফটওয়্যার প্রকৌশলী গৌরব রায়ের মতো ভক্তদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি এক চরম হতাশার। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখার জন্য ৯ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া এই ফুটবলপ্রেমীর মতে, ভারতীয় ফুটবলের সমর্থক হওয়া মানেই হলো প্রত্যাশা ছাড়া ভালোবাসা শেখা। কিউরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো ক্ষুদ্র জনসংখ্যার দেশগুলো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খেলায় ভারতের সম্ভাবনা যেন কেবলই অপচয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় ফুটবলের এই দৈন্যদশার পেছনে রয়েছে দুর্বল যুব উন্নয়ন কাঠামো, জনপ্রিয়তার অভাব এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) অদূরদর্শী পরিকল্পনা। এফসি গোয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবি পুস্কর মনে করেন, পুরো কাঠামো ঢেলে সাজাতে অন্তত চার বছর সময় প্রয়োজন এবং বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছাতে দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা দরকার।

ক্রিকেট-পাগল ভারতে ফুটবল কেবল পশ্চিমবঙ্গ, গোয়া, কেরালা, মিজোরাম ও মণিপুরের মতো হাতে গোনা কিছু অঞ্চলে জনপ্রিয়। ২০১৪ সালে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল চালু হলেও তা প্রত্যাশিত সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সাথে ফেডারেশনের অংশীদারিত্বের সমাপ্তি এবং নতুন সংবিধান নিয়ে আইনি জটিলতা পুরো ঘরোয়া ফুটবল কাঠামোকে অস্থির করে তুলেছে। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের সিইও মান্দার তামহানে মনে করেন, কেবল ক্লাবের প্রচেষ্টায় এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সরকার ও কর্পোরেট জগতের সম্মিলিত উদ্যোগ।

বিজ্ঞাপন

মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী ও এআইএফএফ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য লালনঘিংলোভা হমার জানান, দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের খেলোয়াড়রা যেখানে এক মৌসুমে ৪০টির বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান, সেখানে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ খেলোয়াড়রা ১৫টির বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না। যোগ্যতাসম্পন্ন কোচের অভাব এবং অধিকাংশ রাজ্যে যুব লিগ না থাকা ভারতের ফুটবলের অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের আগ্রহ দেখানো ভারতের সরকার এখন ‘স্পোর্টস পাসপোর্ট’ চালুর কথা ভাবছে, যা ভারতীয় বংশোদ্ভূত অ্যাথলেটদের দেশের হয়ে খেলার সুযোগ করে দেবে। তবে ফুটবল ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারত স্থির হয়ে বসে থাকলে লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। বিশ্বকাপের আসর ৬৪ দলে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে কিছুটা আশার আলো দেখলেও, মাঠের লড়াইয়ে ভারতের পিছিয়ে থাকা অবস্থানই এখন ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

0%
0%
0%
0%