ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় উত্তাল বিশ্ব ফুটবল ও উয়েফার বয়কটের হুমকি

ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এখন এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে। ২০২৬ বিশ্বকাপ পরবর্তী পরিকল্পনা হিসেবে বৈশ্বিক এই সংস্থাটি ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, তা ফুটবল মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সাবসিডিয়ারি গঠনের কথা ভাবছে ফিফা, যেখান থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির ছক কষা হয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই উদ্যোগকে ফুটবলের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে দাবি করলেও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা একে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। উয়েফার মতে, ফুটবলের আত্মা এবং এর শাসনব্যবস্থা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় যা বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা যায়। এই পরিকল্পনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উয়েফা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যার মধ্যে ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি সাধারণ সমর্থকদের সম্পদ। বার্নহ্যামের মতে, বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ কারো বিক্রির বস্তু হতে পারে না এবং ফিফার এই পদক্ষেপ ফুটবলের মূল দর্শনকে ধ্বংস করবে। এদিকে কনকাকাফও জানিয়েছে যে, এমন বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অনুসরণ করা হয়নি, যা তাদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিতর্কিত পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল। মূলত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলকে ফুটবলের আঙিনায় নিয়ে আসাই ফিফার এই বাণিজ্যিক কৌশলের মূল লক্ষ্য। কিন্তু আইপিএলের বাজার মূল্য ২০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, ফুটবলের মতো ঐতিহ্যবাহী খেলায় এই মালিকানা কাঠামো প্রয়োগের বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
উয়েফার অধীনে থাকা ৫৫টি সদস্য রাষ্ট্রসহ ফিফার মোট ২১১টি দেশের ভোটাভুটির ওপর নির্ভর করছে এই পরিকল্পনার ভাগ্য। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের উচ্চমূল্য, ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক এবং হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বাণিজ্যিক নাটকীয়তার পর ফিফার প্রতি সমর্থকদের আস্থার সংকট এমনিতেই চরমে। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা তাদের এই বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধরে রাখতে উয়েফাসহ বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসে, নাকি বিশ্ব ফুটবলে এক বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়।
