বিদেশি বহিষ্কারে জরুরি ডিক্রি জারি করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সম্প্রতি এক জরুরি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে সরকার এখন থেকে বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। নতুন এই নির্দেশনায়, যারা আর্জেন্টিনা বা দেশটির জাতীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষ’ ছড়াবে, তাদের ভিসা বাতিল, বহিষ্কার কিংবা প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে। বৃহস্পতিবার জারি করা এই বিতর্কিত ডিক্রি নিয়ে এরই মধ্যে দেশটির আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তাকে একটি ‘পরিকল্পিত শত্রুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে মাইলের প্রশাসন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্পেন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার পর থেকেই দলটির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এবং অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর মাঠের পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সংঘাতময় আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার তিন খেলোয়াড় ও এক কোচের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আর্জেন্টিনার মর্যাদা ও জাতীয় প্রতীকের অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের ভাষ্যমতে, যারা আর্জেন্টিনাকে আক্রমণ করছে, তাদের এই ভূখণ্ডে কোনো জায়গা হবে না। তবে এই আদেশের আইনি ভিত্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, ডিক্রিতে ‘বিদ্বেষ’ শব্দটির স্পষ্ট কোনো সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি, যা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নিজের দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই মিলেই অভিযোগ করেছেন যে, এই আন্তর্জাতিক সমালোচনা মূলত ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থিদের দ্বারা অর্থায়িত একটি ‘আর্জেন্টিনা বিরোধী’ ষড়যন্ত্র। এই অভিযোগের জেরে ব্রাজিল এরই মধ্যে দেশটিতে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্দেশ সাংবিধানিক বা একাডেমিক সমালোচনার ওপর প্রযোজ্য হবে না, তবুও পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে আনার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
