AdvertisementAdvertisement

ছেলের হাতে বন্দুক তুলে দেওয়া বাবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড

জর্জিয়ার অ্যাপালাচি হাই স্কুলে নিজের সন্তানের চালানো বন্দুক হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা কলিন গ্রে-কে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারক নিকোলাস প্রিম এই রায় ঘোষণা করেন। নিজের কিশোর ছেলেকে প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র উপহার দেওয়া এবং তার মানসিক অস্থিরতার বিষয়ে উদাসীন থাকার দায়ে ৫৫ বছর বয়সী কলিন গ্রে-কে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার ওই বিদ্যালয়ে ১৬ বছর বয়সী কল্ট গ্রে বন্দুক নিয়ে অতর্কিতে গুলি চালায়। এতে ১৪ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থী মেসন শার্মারহর্ন ও ক্রিশ্চিয়ান অ্যাঙ্গুলো এবং রিচার্ড অ্যাস্পিনওয়াল ও ক্রিস্টিনা ইরিমি নামের দুই শিক্ষক নিহত হন। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে কল্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে, যার কোনো প্যারোলের সুযোগ নেই।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিচারক নিকোলাস প্রিম রায়ের সময় কলিন গ্রে-র প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। বিচারক উল্লেখ করেন, ছেলের মানসিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও বাবা হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সুরক্ষিত রাখা এবং ছেলেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা। কিন্তু কলিন গ্রে বারবার পাওয়া সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করেছেন, যার পরিণতি হয়েছে অত্যন্ত ভয়াবহ।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালের বড়দিনের উপহার হিসেবে কলিন গ্রে তার ছেলেকে সিগ সাউয়ার সিগএম৪০০ রাইফেলটি কিনে দিয়েছিলেন। যদিও পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে কল্টের মা মার্সি গ্রে, আগেই ছেলের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং বন্দুকগুলো সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব সতর্কবার্তা পাত্তা না দেওয়ার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সম্ভব হয়েছে বলে কৌঁসুলিরা আদালতে দাবি করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, কল্ট গ্রে-র বেডরুমে অন্য এক গণশুটিংয়ের হত্যাকারীর প্রতি মুগ্ধতার চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও বাবা হিসেবে কলিন গ্রে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের আইনি বিতর্ক চলছে। ইতিপূর্বে মিশিগানের একটি অনুরূপ মামলায় ক্রামব্লি দম্পতিকেও তাদের সন্তানের চালানো হামলার দায়ভার নিয়ে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে বিচারক নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, আইনের শাসন বজায় রাখতে আবেগের ঊর্ধ্বে গিয়েই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আদালতে আসা ভুক্তভোগীদের স্বজনদের উদ্দেশ্যে বিচারক বলেন, কলিন গ্রে নিজে ট্রিগারে চাপ না দিলেও, তার অবহেলাই মূলত একটি কিশোরের হাতে মরণাস্ত্র তুলে দিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত চারজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%