না ফেরার দেশে ফুটবল কিংবদন্তি কেভিন কিগান ৭৫ বছর বয়সে জীবনাবসান দ্বৈত ব্যালন ডি অর জয়ী মহাতারকার

ফুটবল বিশ্বের শোকের সাগরে ভাসিয়ে ৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ কেভিন কিগান। গত বছর চতুর্থ ধাপের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে আসছিলেন এই মহাতারকা। সোমবার পরিবারের পক্ষ থেকে এক আবেগঘন বার্তায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শেষ সময়ে স্ত্রী ও কন্যাদের সান্নিধ্যেই জীবনাবসান ঘটে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের।
মাঠের লড়াইয়ে ‘মাইটি মাউস’ নামে পরিচিত কিগান ছিলেন তার প্রজন্মের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। লিভারপুলের হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময় কাটানো এই ফরোয়ার্ড ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুইবার জিতেছিলেন মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর। লিভারপুলের হয়ে চারবার ইংলিশ শীর্ষ লিগের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কাপ জয়েও রেখেছেন অসামান্য অবদান। এনফিল্ড ছেড়ে ১৯৭৭ সালে জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দেওয়া কিগান পরবর্তীতে সাউদাম্পটন ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জার্সিতেও মাঠ কাঁপিয়েছেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ডাগআউটেও সমান সফল ছিলেন কিগান। ১৯৯৩ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত করার নেপথ্যে কারিগর ছিলেন তিনি। তার অধীনে নিউক্যাসল তৎকালীন সময়ে ‘দ্য এন্টারটেইনার্স’ হিসেবে পরিচিতি পায় এবং ১৯৯৬ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঠিক পেছনে থেকে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফুলহ্যাম ও ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচের আসনেও বসেছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে নিউক্যাসলের হয়েই কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানেন এই কিংবদন্তি।
কিগানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ফুটবল বিশ্বে। নিউক্যাসল ইউনাইটেড এক বিবৃতিতে তাকে ক্লাবের ‘স্পন্দন’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে, একজন কোচ হিসেবে তিনি পুরো শহরকে উদ্দীপ্ত করেছিলেন এবং সমর্থকদের মনে বুনে দিয়েছিলেন নতুন স্বপ্ন ও গর্বের বীজ। লিভারপুলের পক্ষ থেকেও তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়েছে, কিগানের স্মৃতি এবং ফুটবল নিয়ে তার অসামান্য অবদান ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।
ম্যানচেস্টার সিটি, সাউদাম্পটন এবং টটেনহ্যাম হটস্পারসহ ইংলিশ ফুটবলের প্রতিটি ক্লাবই তাকে ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করেছে। প্রাক্তন লিভারপুল তারকা জেমি ক্যারাগার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ইংলিশ ফুটবলের একজন ‘দানবীয় ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, লিভারপুল এফসিকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন কেভিন কিগান। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে কিগানের নামটা কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং এক অমর অনুপ্রেরণার নাম হয়েই বেঁচে থাকবে।