২১ পদক জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় চ্যাড লে ক্লোস

কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে নতুন এক মহাকাব্য রচনা করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি সাঁতারু চাদ লে ক্লোস। বুধবার রাতে পুরুষদের ৪ গুণিতক ১০০ মিটার মেডলি রিলেতে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের ঝুলিতে পুরলেন ২১তম কমনওয়েলথ পদক। এই অনন্য অর্জনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলীয় তারকা এমা ম্যাককেওনকে ছাড়িয়ে তিনি এখন এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অ্যাথলেট।

বিজ্ঞাপন

৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ সাঁতারু রিলে ইভেন্টে বাটারফ্লাই লেগ সাঁতারের দায়িত্ব পালন করেন। এই ব্রোঞ্জ জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ সালের চলমান আসরে তার পদকের সংখ্যা দাঁড়াল ৩টিতে। এর আগে মিশ্র ৪ গুণিতক ১০০ মিটার মেডলি রিলেতে রৌপ্য এবং পুরুষদের ৪ গুণিতক ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। গত পাঁচটি কমনওয়েলথ গেমসে সব মিলিয়ে তার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য এবং ৯টি ব্রোঞ্জ পদক।

২০১০ সালে দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ৫টি পদক জয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন লে ক্লোস। এরপর ২০১৪ সালের গ্লাসগো আসরে ৭টি, ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট আসরে ৫টি এবং ২০২২ সালের বার্মিংহাম আসরে ১টি পদক অর্জন করেন তিনি। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, সতীর্থদের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং দলের সমর্থন তাকে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

শুধু কমনওয়েলথ গেমস নয়, অলিম্পিকের মঞ্চেও লে ক্লোস এক পরিচিত নাম। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক গেমসে ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে কিংবদন্তি মাইকেল ফেলপসকে মাত্র ০.০৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণ জিতে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের অপরাজেয় ফেলপসকে হারানোর সেই স্মৃতি আজও ক্রীড়ামোদীদের মনে গেঁথে আছে। রিও ডি জেনিরোর পর টোকিও ও প্যারিস অলিম্পিকেও অংশ নেওয়া এই সাঁতারু এখন ২০২৬ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। পঞ্চম বারের মতো অলিম্পিকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের স্বপ্ন দেখছেন এই অদম্য ক্রীড়াবিদ।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%