নতুন আশায় প্রবাস ছেড়ে সিরিয়ায় ফিরছেন প্রবাসী সিরীয়রা

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সেই পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূর কানাডা থেকে নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছেন ইয়াসিন তাসেবিজি ও তাঁর পরিবার। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার মিসিসাগা শহরে স্বচ্ছল জীবনযাপন ত্যাগ করে তাঁরা এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠনে নিজেদের সামিল করেছেন। দামেস্কের মেজ্জেহ এলাকায় একটি ক্লাইম্বিং জিম বা পর্বতারোহণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে মনোবল ও সামাজিক সম্প্রীতি ফেরাতে কাজ করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

২০১০ সালে গৃহযুদ্ধের এক বছর আগে তাসেবিজি পরিবার কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিল। দীর্ঘদিন সিরিয়াকে একটি ‘বন্ধ অধ্যায়’ হিসেবে বিবেচনা করলেও, আসাদ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। তাসেবিজির ভাষ্যমতে, এটি তাদের জীবনে এক নতুন উদ্দেশ্য ও পরিপূর্ণতার সন্ধানের সুযোগ এনে দেয়। কেবল তাসেবিজি পরিবার নয়, প্রেসিডেন্ট আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।

তবে এই প্রত্যাবর্তনের পথ মোটেও কন্টকাকীর্ণ নয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ২১৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে দেশটির অবকাঠামো ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সাফল্য পেলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রত্যাগতদের সামনে কেবল অর্থনৈতিক সংকটই নয়, বরং সামাজিক সংহতির চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির নীতি ও অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর তারিক আজিজ সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে মতাদর্শিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য তৈরি হয়েছে। একে অপরের সাথে পুনরায় সহাবস্থান শিখতে গিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াটি ধীর ও সুপরিকল্পিত হওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তাসেবিজি পরিবার স্বীকার করে যে, একটি ক্লাইম্বিং জিমের মাধ্যমে সামগ্রিক সামাজিক বিভেদ দূর করা সম্ভব নয়। তবুও তারা তাদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি ও মতাদর্শের সিরীয় তরুণদের একত্রিত করার স্বপ্ন দেখছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আশার আলো জ্বালিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজ ভূমিতে টিকিয়ে রাখাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সিরিয়ার বিশাল পুনর্গঠন যাত্রায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%