AdvertisementAdvertisement

সালমান রুশদির ওপর হামলায় হাদি মাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রমাণিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রখ্যাত সাহিত্যিক সালমান রুশদির ওপর ২০২২ সালে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হাদি মাতারকে নতুন করে সন্ত্রাসবাদের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ফেডারেল জুরি। ইতোমধ্যে ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগরত ২৮ বছর বয়সী এই অপরাধীর বিরুদ্ধে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে বস্তুগত সহায়তা প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই রায়ের ফলে হাদি মাতারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার মাত্র দুই ঘণ্টার বিচারিক পর্যালোচনার পর নিউ ইয়র্কের আদালত সর্বসম্মতভাবে মাতারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। কৌঁসুলিরা আদালতে দাবি করেন যে, মাতার ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ফতোয়া দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই নৃশংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২২ সালে বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে মাতারকে উক্ত ফতোয়া নিয়ে উগ্র আলাপচারিতায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে নিউ ইয়র্কে একটি বক্তৃতা অনুষ্ঠানে যোগদানের সময় রুশদির ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন মাতার। সেই ভয়াবহ হামলায় রুশদি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। গত বছরের মে মাসে দায়ের করা পৃথক মামলায় তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও ইরান এই হামলার সাথে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তিময় পরিবেশে রুশদির ওপর এই বর্বর আক্রমণ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ বাহু ও হুমকির এক শীতল অনুস্মারক। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মামলার শুনানিতে স্বয়ং সালমান রুশদি আদালতে উপস্থিত হয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ দেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ-মার্কিন এই লেখক তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’-এর জন্য বুকার পুরস্কারসহ নানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তবে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত তাঁর চতুর্থ উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি এই হামলার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ‘নাইফ: মেডিটেশনস আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডার’ নামে একটি স্মৃতিকথা রচনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%