বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসি বনাম বেলিংহামের মহারণ আটলান্টায় মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক মহারণের। দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় এই দ্বৈরথে মাঠ মাতাবেন লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের মতো তারকারা। শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে দুই পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়া ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের মধ্যমণি হয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম। মায়ামিতে নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ইংল্যান্ডের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে জোড়া গোল করেছেন তিনি। মেক্সিকোর বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিন ম্যাচেও জোড়া গোল করে তিনি রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন। ১৯৮৬ সালে কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার পর বেলিংহামই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি নকআউট পর্বের টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করার অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ২৩ বছর বয়সী এই তারকার ওপরই সেমিফাইনালে জয়ের বড় প্রত্যাশা থাকবে ইংলিশ সমর্থকদের।
ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় থাকা হ্যারি কেইন আবারো গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে দারুণভাবে টিকে আছেন। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলসহ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছেন এই ইংলিশ অধিনায়ক। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। আটলান্টার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কেইন নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পাবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এই ভেন্যুতেই কঙ্গোর বিপক্ষে তিনি তার ফর্মের ঝলক দেখিয়েছিলেন।
ইংলিশ আক্রমণভাগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অ্যান্থনি গর্ডন নকআউট পর্বে এসে নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছুটা ধীরস্থির থাকলেও এখন তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় আতঙ্ক। নরওয়ের বিপক্ষে বেলিংহামের প্রথম গোলটিতে সহায়তা করার পাশাপাশি মেক্সিকোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিলেন এই উইঙ্গার। গর্ডনের গতির ওপর নির্ভর করেই আর্জেন্টাইন রক্ষণের ফাটল ধরার পরিকল্পনা করছেন গ্যারেথ সাউথগেট।
অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি এই বিশ্বকাপে যেন নতুন যৌবন ফিরে পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮ গোল এবং ২ অ্যাসিস্ট করে মেসি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করা মেসি গোল পেয়েছেন অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষেও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা আর্জেন্টাইন মহাতারকা মারাদোনার উত্তরসূরি হিসেবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন।
আর্জেন্টাইন শিবিরে মেসির পাশাপাশি লাউতারো মার্তিনেজও দারুণ ছন্দে আছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করা এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত ২ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনায় শুরুর একাদশে থাকুন বা বদলি হিসেবে, মার্তিনেজ গোল করার ক্ষেত্রে সবসময়ই বিপজ্জনক।
আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হাতে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় মেসির ক্রস থেকে গোল করে তিনি দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার প্রিমিয়ার লিগে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইংলিশ মিডফিল্ডারদের সামাল দিতে প্রস্তুত। রক্ষণ থেকে আক্রমণে বলের জোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাক অ্যালিস্টার ও মেসির রসায়নই বুধবার রাতে নির্ধারণ করতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।
