যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতায় ম্লান বিশ্বকাপের আনন্দ ক্ষুব্ধ ইরান দল

লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ফিফা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ ছিল, যেন প্রশ্নগুলো কেবল ফুটবল কৌশল ও মাঠের লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু ইরানের কোচ আমির গালানোয়ি এবং তারকা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি যখন মঞ্চে এলেন, তখন মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের জটিলতাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি এবং আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে ইরানের প্রস্তুতির ওপর আরোপিত নানা বিধিনিষেধ যে ফুটবলের চিরচেনা আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কোচ ও খেলোয়াড়ের বক্তব্যে।
ইরানের প্রধান কোচ আমির গালানোয়ি রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী আক্ষেপ করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণ ফুটবলের মূল আবেগের পরিপন্থী। তাদের দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্প করার সুযোগ না রাখা বা লজিস্টিক বিভিন্ন বাধা তৈরি করা টুর্নামেন্টের স্পিরিটকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও যোগ করেন, জয় কিংবা পরাজয়—সবকিছুর ঊর্ধ্বে ফুটবলের যে মানবিক আবেদন থাকে, তা এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হারিয়ে যাচ্ছে।
একই সুর শোনা গেল তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমির কণ্ঠে। তিনি সোমালি রেফারি ওমর আরতানকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গটি টেনে এনে বলেন, কেবল ইরান নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নীতি পুরো টুর্নামেন্টের পরিবেশকেই বিষিয়ে তুলছে। তার মতে, বিশ্বকাপ মানেই যেখানে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা থাকে, সেখানে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সেই উৎসবের আমেজকে নষ্ট করছে। তিনি মনে করেন, দর্শকরাও এবার বিশ্বকাপের সেই চিরাচরিত রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাছাইপর্বে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ১০ ম্যাচের মধ্যে কেবল ১টি ম্যাচে হেরে ইরান সবার আগে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছিল। মাঠে তাদের ফর্ম বেশ আশাব্যঞ্জক হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার আশঙ্কার কারণে দলটির অংশগ্রহণ নিয়েও এক সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে ঠিক হয়েছে যে, ইরান তাদের অনুশীলন চালাবে মেক্সিকোতে এবং শুধুমাত্র ম্যাচের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে আসবে। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কোচ গালানোয়ি আশা করছেন, ফুটবল যেন সংস্কৃতির সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের তীব্র উত্তেজনার মাঝেও ইরান দল নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে অবিচল। তারা নিজেদের পুরো জাতির প্রতিনিধি হিসেবে এই টুর্নামেন্টে এসেছে বলে বারবার জোর দিয়েছেন তারেমি। সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ইরান এখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগী। তবে সংবাদ সম্মেলন শেষে তারেমির রসিকতা—কেউ ফুটবল নিয়ে একটিও প্রশ্ন করল না—তা যেন পুরো পরিস্থিতির এক বিদ্রূপাত্মক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সব বাধা পেরিয়ে ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।
