ইরান ও ইসরায়েল নীতি নিয়ে ভ্যান্স ও রুবিওর অবস্থান ঘিরে হোয়াইট হাউসে বিভক্তির গুঞ্জন নাকচ

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা—উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভিন্নমুখী অবস্থান নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক কৌশল এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশ্নে দুজনের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য লক্ষ্য করা গেলেও হোয়াইট হাউজ বিষয়টিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে পুরো প্রশাসন একক নীতিতে অবিচল রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছেন জে ডি ভ্যান্স। সেখানে সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে ইসরায়েলের সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ভ্যান্সের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষ নিয়ে তেহরানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

লেবাননের বেসামরিক অবকাঠামোয় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় নিয়ে দুই নেতার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের ফারাক দেখা গেছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে। যেখানে ভ্যান্স মনে করেন ইসরায়েলের এই আগ্রাসন মার্কিন শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে, সেখানে রুবিও একে হিজবুল্লাহর হামলার বিপরীতে একটি ‘যৌক্তিক ও আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও দুই নেতার মন্তব্যে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। রুবিও বাহরাইনে এক ভাষণে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ কোনো একক দেশের সম্পত্তি হতে পারে না এবং ইরানকে সেখানে কোনো ধরনের টোল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ভ্যান্স ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার আগের মার্কিন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে দেশগুলোর আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি সামনে এনেছেন। এই দুই নেতার ভিন্নমুখী অবস্থান মূলত রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে বিদ্যমান দুটি পৃথক আদর্শিক বলয়ের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, প্রশাসনে কোনো বিভাজন নেই এবং সবাই ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর লক্ষ্য অর্জনে একজোট। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাবি করেছেন, তাদের দুজনেরই লক্ষ্য এবং কর্মকৌশল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনার আলোকেই নির্ধারিত। বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্স এবং রুবিও দুজনেই ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাদের এই রাজনৈতিক কৌশলী অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%