ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমারের বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং কট্টর ডানপন্থী কর্মী লরা লুমার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দীর্ঘ বছর ধরে ইউক্রেন ও দেশটির নেতৃত্বের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত লুমার সম্প্রতি তার অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাম্বল-এ প্রচারিত নিজের অনুষ্ঠানের জন্য তিনি জেলেনস্কির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন এবং স্বীকার করেন যে, এতদিন ধরে রাশিয়ার প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে তিনি ভুল পথে ছিলেন।
লুমারের এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কিয়েভ। জেলেনস্কির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লুমার সরাসরি ইউক্রেনে এসে যুদ্ধ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখছেন, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাক্ষাৎকারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রায় ২০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশ্যে তিনি দাবি করেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম অশুভ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লুমারের অভিযোগ, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করার মাধ্যমে রাশিয়া মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রেও ইন্ধন জোগাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনকে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নাৎসি মতাদর্শের ধারক বলে অভিযুক্ত করে আসা লুমারের এই অবস্থান পরিবর্তন মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক সুবিদিত। এর আগে পেন্টাগনের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি পাওয়া লুমার গত অক্টোবরে ফিলিস্তিনপন্থী সাংবাদিক সামি হামদির ভিসা বাতিলের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার দাবি করেছিলেন। এ ছাড়াও তিনি অভিবাসন নীতি ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে নিয়মিত আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন।
বিশ্লেষকদের মতে, লুমার ও জেলেনস্কির এই বৈঠক মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্কের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশের মধ্যে তীব্র সংশয় ছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত যুদ্ধ অবসানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পরেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। লুমারের এই দলবদল ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে ইউক্রেন বিষয়ে জনমত গঠনে কতটা ভূমিকা রাখে, তা এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা