বাঁশখালীতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ৪০ হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরার নির্দেশ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত প্রায় ৪০ হাজার পরিবার ভারী বর্ষণে প্রাণহানির চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বর্ষাকালে একটানা প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অতীতেও শীলকূপসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপন, জীবিকার তাগিদ এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়ার অসহায়ত্ব থেকে অনেকেই পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বসতি সরাতে এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পুনর্বাসনের অভাবে মানুষ আবারও পাহাড়ের ঢালে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে শীলকূপ, চাম্বল, পুঁইছড়ী, নাপোড়া, জলদী, পাইরাং, গুনাগরী, কালীপুর, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দারা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাঁশখালী ইকোপার্কের পরিচালক ও ফরেস্ট রেঞ্জার ইসরায়েল হক জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের তথ্যমতে, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল এবং নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও পরিলক্ষিত হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা পুনর্বাসনের অভাবকে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রাণহানি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পাহাড় কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।