বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই গুরুত্বহীন নয় উয়েফা সভাপতির মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ ১৩ দেশের

বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো ম্যাচই গুরুত্বহীন নয়, বরং প্রতিটি লড়াইয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকে কোটি মানুষের আবেগ ও স্বপ্ন। ফিফা বিশ্বকাপের পরিধি বাড়িয়ে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার সেফেরিনের বিতর্কিত মন্তব্য বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে। সেফেরিন সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, টুর্নামেন্টে অনেক ম্যাচই বেশ নিরস ও আকর্ষণীয় নয়। তার এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১৪টি দেশের ফুটবল ফেডারেশন।

বিজ্ঞাপন

কেপ ভার্দে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, কুরাসাও, হাইতি, জর্ডান, উজবেকিস্তান, আলজেরিয়া, মিশর, ঘানা, আইভরি কোস্ট, মরক্কো, সেনেগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তিউনিসিয়ার ফুটবল ফেডারেশনগুলো সম্মিলিতভাবে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা সেফেরিনের এই বক্তব্যকে বিনয়ের সাথে কিন্তু দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তাদের মতে, ফুটবল কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের সম্পত্তি নয়, বরং এর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর সর্বজনীনতায়।

২০২৬ সালের এই আসরটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩২ দলের প্রথা ভেঙে ৪৮টি দেশ নিয়ে আয়োজিত এই আসর নিয়ে অনেক দেশেরই প্রত্যাশা তুঙ্গে। বিশেষ করে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এছাড়া কঙ্গো এবং হাইতির মতো দেশগুলো ১৯৭৪ সালের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফিরছে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে। রোববারের ম্যাচে জার্মানির কাছে কুরাসাও ৭-১ গোলে পরাজিত হলেও, এমন অভিজ্ঞতাকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন কেবল একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়, এটি একটি গোটা প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যম। সেফেরিন লুবলিয়ানার এক সম্মেলনে দাবি করেছিলেন যে, টুর্নামেন্টে এমন অনেক ম্যাচ আছে যা বিন্দুমাত্র আকর্ষণীয় নয়। অথচ এই ক্ষুদ্র দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়ানোই জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। কঙ্গো বা হাইতির মতো দেশগুলোর জন্য এই প্রত্যাবর্তন লাখ লাখ সমর্থকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফসল।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এই জোট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি দল কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে এখানে জায়গা করে নিয়েছে। খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবল নেতাদের আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষাকে খাটো করে দেখার অধিকার কারও নেই। ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং এটি প্রতিটি সমর্থকের স্বপ্ন দেখার অধিকার দেয়। পরিশেষে, তারা ফুটবল বিশ্বের প্রতিটি দেশকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, ফুটবলের বিকাশ কেবল নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং আমাদের এই খেলার বিশ্বজনীন সত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

0%
0%
0%
0%