স্কুল ছাত্রীর টিফিনের রুটিতে ব্লেড পাওয়া: গাজীপুরে কোকোলা ফুড কারখানা পরিদর্শন তদন্ত কমিটির

বরিশালের গৌরনদীর হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিনের রুটির ভেতর ধারালো ব্লেড পাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুন এলাকায় অবস্থিত কোকোলা ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড কারখানায় অভিযান চালিয়েছে তদন্ত কমিটি। গত শনিবার দিনভর কারখানাটি পরিদর্শন শেষে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও জব্দ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
অভিযান পরিচালনাকারী চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ. কে. এম নুরুল আলম মৃধা, উপজেলা মেডিকেল কর্মকর্তা সৌভিক সরকার এবং স্যানিটারি পরিদর্শক শংকর কুমার দাস। গত ২৩ জুলাই গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কারখানা পরিদর্শনকালে কোকোলা ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আব্দুজ জাহের দাবি করেন যে, তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ময়দা চালার সময় তিন মিলিমিটার ছিদ্রযুক্ত চালুনি ব্যবহার করা হয় এবং স্বয়ংক্রিয় মেটাল ডিটেক্টরও বসানো রয়েছে। তিনি এটিকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. সেকেন্দার শেখ জানান, টিফিনের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানা থেকে সংগৃহীত আলামতগুলো এখন নিবিড়ভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুতই বিস্তারিত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই হরিসেনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী টিফিনের রুটি খাওয়ার সময় ভেতরে ধারালো ব্লেডটি দেখতে পায়। বিষয়টি সে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহারকে অবগত করলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।