সার্বিয়ার রাজনীতিতে চলমান তীব্র রাজনৈতিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতার অবসান ঘটাতে আগাম সংসদীয় নির্বাচন আয়োজনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার সোমবার পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেছে, যা প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ সরকারের জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা দুর্নীতিবিরোধী গণবিক্ষোভ এবং জনগণের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
রাজধানী বেলগ্রেডে সোমবার এক ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী জুরো মাকুত জানান যে, সমাজের উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, তা এগিয়ে এনে চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় বরাদ্দ রাখা হবে এবং প্রেসিডেন্ট ভুচিচ খুব শীঘ্রই সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করবেন।
গত ২০২৪ সালে রেলওয়ে স্টেশনে কনক্রিটের ছাদ ধসে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই সার্বিয়া জুড়ে নজিরবিহীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ছাত্রনেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন এবং দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে গভীর বিভাজন ও তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া, সার্বিয়ার প্রগতিশীল দল প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ভুচিচকে মনোনীত করায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতার আসন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে বিরোধীরা ভুচিচ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগসাজশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ও তার ঘনিষ্ট মহল এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যুদ্ধাপরাধী রাতকো ম্লাদিচের দাফনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক চাপও অব্যাহত রয়েছে। বারো বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এই অভিজ্ঞ নেতার রাজনৈতিক কতৃত্ব বজায় রাখার লড়াইয়ে আসন্ন এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।