বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সোহেল সিকদারের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা আক্তারের দুই এতিম শিশু সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল। সোমবার দুপুরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পশ্চিম সরসী গ্রামে নিহতের বাবার বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে পৌঁছে তিনি নিহতের বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়া মা এবং অনাথ দুই শিশু সন্তান সাফওয়ান ও তাসফিয়াকে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই দুই শিশু সন্তানের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় মুক্তার অবুঝ দুই শিশু ডুকরে কেঁদে ওঠে এবং তাদের বাবাই যে মাকে মেরে ফেলেছে বলে জানায়। অবোধ শিশুদের এই করুণ আর্তি ও স্বজনদের আহাজারিতে সে সময় পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, মেয়েটিকে মিথ্যা অপবাদ ও যৌতুকের লোভে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আসামি যেন কোনো অবস্থাতেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়, সেজন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিহত মুক্তার পরিবারের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিতে সোহেল তার স্ত্রী মুক্তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করেন। নির্যাতনের লোমহর্ষক সেই ভিডিও মুক্তার ভাইয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার পর মারধরের একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুক্তা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার।