নারী রিকশাচালক হেলেনার রিকশায় চড়ে নগর ঘুরে দেখলেন দুই শীর্ষ কর্মকর্তা নতুন রিকশা উপহার দেওয়ার ঘোষণা

বরিশাল নগরীতে নারী ক্ষমতায়ন ও সাহসিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন একমাত্র নারী রিকশাচালক হেলেনা বেগম। সোমবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে এই সাহসী নারীর রিকশায় চড়ে নগরী ঘুরে দেখেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এবং বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা। দুই উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তাকে রিকশায় নিয়ে নগর ঘোরার এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষ হতবাক ও অভিভূত হন।

কীর্তনখোলা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় একটি ঝুপড়ি ঘর ভাড়া নিয়ে তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন সংগ্রামী হেলেনা বেগম। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এই নারী। সংসার টিকিয়ে রাখতে অতীতে কখনো ইট ভেঙেছেন, কখনো দিনমজুরের কাজ করেছেন এবং বর্তমানে রিকশার হ্যান্ডেল ধরেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

তিন মেয়ের মধ্যে বড় দুই মেয়ে অন্যের বাসায় কাজ করলেও ছোট মেয়েকে সঙ্গে রেখেই রিকশা চালান হেলেনা। রিকশার মালিককে প্রতিদিন ৩০০ টাকা জমা দিয়ে বাকি যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোরকমে তার সংসার চলে। অন্য কোনো পেশায় দক্ষতা না থাকায় পেটের টানে কঠোর পরিশ্রমকেই জীবনের একমাত্র অবলম্বন করেছেন তিনি এবং বেশিরভাগ সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রিকশায় বহন করেন।

নিজের একটি রিকশা না থাকায় আয়ের বড় একটি অংশ মালিককে ভাড়া হিসেবে দিতে হয় বলে জানান হেলেনা বেগম। রিকশা চালাতে গিয়ে কখনো মানুষের প্রশংসা পেলেও অনেক সময় তাকে উপহাসের শিকার হতে হয়, যা এখন আর তিনি গায়ে মাখেন না। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কারও কাছে হাত না পেতে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে রাজপথে নেমে পড়েন তিনি।

ঘটনার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, সমাজে নারী শক্তিই বড় শক্তি এবং নারীর জয় সবার জয়। হেলেনা বেগম রিকশা চালিয়ে যেভাবে সংসারের হাল ধরেছেন, তা নারী সমাজের জন্য একটি বড় প্রেরণা। এ সময় তিনি সাহসী এই নারী রিকশাচালকের জন্য খুব শীঘ্রই একটি নতুন রিকশা কিনে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

০%
০%
০%
০%