অটোরিকশার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া প্যাডেল রিকশার শেষ সারথি ৭১ বছরের মোহাম্মদ উল্লাহ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর শহরে আধুনিকতার ভিড়ে এখন এক ব্যতিক্রমী চিত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে সময়ের স্রোতের বিপরীতে এখনো জীবিকা নির্বাহের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এক প্রবীণ মানুষ। পৌর শহরের একমাত্র পায়ে চালিত রিকশাচালক ৭১ বছর বয়সী মোহাম্মদ উল্লাহ প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শহরের সোনাপুর চৌরাস্তার রিকশাস্ট্যান্ডে এসে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকেন। চারপাশে সারি সারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভিড়ে বহু বছরের পুরোনো ও জীর্ণশীর্ণ এই রিকশাটি নিয়ে তার অপেক্ষা যেন এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর অধ্যায়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাদুর তফাদার বাড়ির বাসিন্দা এই প্রবীণ মানুষটির সংসারে রয়েছে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। গত প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ বছর ধরে তিনি পায়ে চালানো রিকশা চালিয়ে আসছেন এবং বয়সের ভার ও রোগে শোকে শরীর কায়ক্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সংসারের টানে তাকে এই পেশায় থাকতে হচ্ছে। বড় ছেলে ঢাকার একটি রঙের দোকানে চাকরি করলেও সেই সামান্য আয়ে সংসার চলে না বিধায় তাকে এখনো রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

দিনের বেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রচণ্ড ভিড় ও গতির কাছে টিকতে না পেরে তিনি সাধারণত সন্ধ্যার পরই রিকশা নিয়ে বের হন এবং রাত ১১টা কিংবা ১২টা পর্যন্ত যাত্রীর অপেক্ষায় থাকেন। টানা বৃষ্টি ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে বর্তমানে তার দৈনিক আয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় নেমে এসেছে এবং এখন পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি ভাতাও পাননি। তবে অনেক সহানুভূতিশীল যাত্রী তার কষ্টের কথা বুঝতে পেরে বাজার সদাই বা নগদ অর্থ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেন, যা তার পরিবারের জন্য অনেক সময় বড় আশীর্বাদ হয়ে আসে।

একই স্ট্যান্ডের অটোরিকশাচালক মো. খোরশেদ জানান যে মোহাম্মদ উল্লাহ একজন ভালো মানুষ এবং তার যাত্রী কম থাকায় তারা অনেক সময় যাত্রীদের অনুরোধ করে চাচার রিকশায় তুলে দেন। এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান যে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স এখনো ৬৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে পরিচয়পত্র সংশোধন সাপেক্ষে তাকে ভিন্ন উপায়ে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

০%
০%
০%
০%