আন্তর্জাতিক কুস্তি অঙ্গনে মিশরের দুই তরুণ কুস্তিগীরের আকস্মিক অন্তর্ধান ক্রীড়া বিশ্বে আলোচনার ঝড় তুলেছে। স্লোভাকিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপের ক্যাম্প থেকে ১৯ বছর বয়সী জিয়াদ হাজ্জাজ আবু গাবাল এবং ভূমধ্যসাগরীয় গেমস শেষে ফেরার পথে রোম থেকে ২৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-শামি নিখোঁজ হন। এই দুই অ্যাথলেটের এমন সাহসী অথচ বিতর্কিত পদক্ষেপে একদিকে যেমন আইনি জটিলতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনি তাদের পরিস্থিতির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন অসংখ্য ক্রীড়াপ্রেমী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিয়াদ হাজ্জাজ জানিয়েছেন, মাসে মাত্র ৭০০ মিশরীয় পাউন্ড আয়ের ফলে আন্তর্জাতিক মানের একজন অ্যাথলেট হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, মোহাম্মদ আল-শামি তার পরিবারের আর্থিক বোঝা লাঘব করার তাগিদ থেকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতেই এই আত্মত্যাগ করতে হয়েছে, যা মিশরের ক্রীড়াঙ্গনের করুণ বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মিশরের কুস্তি ফেডারেশনের অধীনে থাকা অ্যাথলেটদের আর্থিক দৈন্যদশা দীর্ঘদিনের সমস্যা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্বর্ণপদক জয়ী কুস্তিগীর জানিয়েছেন, অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের অ্যাথলেটরা মাসে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ মিশরীয় পাউন্ড পান, যা দিয়ে পুষ্টিকর খাবার ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো অসম্ভব। এমনকি সিনিয়র আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটদের মাসিক আয়ও ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার পাউন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা তাদের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
এই ঘটনা নতুন নয়, বরং অতীতেও আহমেদ বাগদউদা, তারেক আবদেল সালাম এবং ইব্রাহিম ঘানেমের মতো কুস্তিগীররা উন্নত জীবন ও ক্যারিয়ারের সন্ধানে দেশ ছেড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে অন্য দেশের পতাকা তলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের স্বর্ণপদকও জিতেছেন। সর্বশেষ টোকিও অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ জয়ী মোহাম্মদ ইব্রাহিম এল-সায়েদ ওরফে কিশু যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার ঘোষণা দিয়ে কুস্তি ফেডারেশনের অব্যবস্থাপনার দিকেই আঙুল তুলেছেন।
মিশরীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই দুই কুস্তিগীরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষের সহানুভূতি তাদের পক্ষেই রয়েছে। দারিদ্র্য ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে অ্যাথলেটদের এমন পলায়ন ক্রীড়া জগতের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সঠিক মূল্যায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মিশরীয় কুস্তিগীরদের এই দেশত্যাগের ধারা অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো পরিবর্তনের দাবি রাখে।