স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, জাতীয় সংসদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি একজন মানুষের জ্ঞান, মেধা ও সামাজিক ভূমিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত এমপিদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষিত। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাধারণ আসনে নির্বাচিত ২৯৭ জন এমপির হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে ২৪৭ জন অর্থাৎ প্রায় ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির বিশ্লেষণে এই হার প্রায় ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রকাশিত তথ্যে ১৫ জন এমপির শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি এবং ১৭ জনের এইচএসসি পর্যন্ত রয়েছে।
উচ্চশিক্ষিত ২৪৭ জন এমপির দলভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, বিএনপির ১৭১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৬১ জন, বিএনপি জোটের ৩ জন, জামায়াত জোটের ৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৫ জন রয়েছেন। নিজ নিজ দলের মোট নির্বাচিত এমপির অনুপাতে উচ্চশিক্ষিতের হার জামায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং বিএনপির ক্ষেত্রে প্রায় ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ ছাড়া সংসদ সদস্যদের পেশাগত পরিচয়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্যবসায়ী রয়েছেন, পাশাপাশি আইনজীবী, শিক্ষক ও চিকিৎসকরাও প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের জাতীয় আদালতেও উচ্চশিক্ষিত আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৪ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ২৬৫ জন সদস্যের মধ্যে ১১২ জন স্নাতক এবং ৬৩ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন। একসময় ২০০২ সালে পারভেজ মোশাররফের আমলে প্রার্থী হতে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সমাধান, নাগরিক সেবা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে এখানে অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে উচ্চশিক্ষা আইন প্রণয়ন, বাজেট বিশ্লেষণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ডিগ্রি গুরুত্বপূর্ণ হলেও জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণই শেষ পর্যন্ত একজন জনপ্রতিনিধিকে কার্যকর করে তোলে।