যারা আজ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন, তাদের অনেকেই বাস্তবে পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত—এমন কড়া মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জাম হোসাইন হেলাল। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে পিরোজপুর টাউন স্কুল মাঠে আয়োজিত দলটির জেলা রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেবল প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, বরং যারা ইসলামের নামে দল পরিচালনা করার দাবি করেন, তারাও অভ্যন্তরীণ পরিবারতন্ত্রের চর্চা থেকে বের হতে পারেননি। এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রুকনদের সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য নতুন জেলা আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে জেলার মোট ৬৭২ জন নারী ও পুরুষ রুকন এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জাম হোসাইন হেলাল উল্লেখ করেন, এই ভোটাভুটি মূলত জেলা মজলিসে শূরায় প্রতিনিধি নির্বাচনের অংশ। জামায়াতে ইসলামী বিগত ৮৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্নভাবে এই অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখেছে। যেখানে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা, দলাদলি বা গ্রুপিংয়ের সুযোগ থাকে না।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রবের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক এবং সাবেক পটুয়াখালী জেলা আমির ও বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। রুকন সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।