সিরাজগঞ্জে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে হাসপাতালের আউটসোর্সিং ওয়ার্ডবয় করিম সরকারের (২৯) বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মো. আশরাফ সরকার বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা করেন। অভিযুক্ত করিম সরকার উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ওয়ার্ডবয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

হাসপাতাল সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ওই নারী শুক্রবার বিকেলে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি হন। শনিবার ভোরে অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় করিম সরকার ওই ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন এবং তরুণীর কাছে নাম-ঠিকানা ও তাঁর ডেঙ্গু জ্বর রয়েছে কি না তা জানতে চান। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার ছলে তরুণীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ সময় আকস্মিক এমন আচরণে আতঙ্কিত হয়ে ওই তরুণী চিৎকার করে তার মাকে ডাকেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। অভিযোগ ওঠার পরপরই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী তরুণী জানান, গভীর রাতে বা ভোরে ওয়ার্ডে এসে ওই ওয়ার্ডবয় বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছে নাম-ঠিকানা ও রোগের বিবরণ জানতে চান। কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি কপাল ও গলায় হাত দেওয়ার পর পিঠে হাত বুলিয়ে বুকে স্পর্শ করেন। এ সময় তার চিৎপুরে চারপাশের লোকজন সজাগ হয়ে উঠলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত সটকে পড়েন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পর হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডের কর্মী ও চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত জানান, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁর সান্ত্বনার ব্যবস্থা করেছেন। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ও প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসমত আলী জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় করিম সরকার আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এমন একটি সংবেদনশীল স্থানে রোগী সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয়ের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।

০%
০%
০%
০%