২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েও এবং চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে ‘অসত্য রাজনৈতিক ট্যাগে’ বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফয়জুল আলম। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পুরো জেলায় ব্যাপক আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া গ্রামের কাজী মো নূরুল ইসলামের ছেলে ফয়জুল আলম এই নিয়োগে লালমোহন উপজেলায় ৪৩ জনের মধ্যে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। নিয়োগপত্র পেয়ে যোগদানের নিশ্চিত প্রত্যাশায় তিনি পূর্বের একটি বেসরকারি চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ ভোলা জেলায় মোট ২৫৬ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। যার মধ্যে লালমোহন উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৪৩ জনের মধ্যে ফয়জুল বাদে বাকি সবাই ইতোমধ্যে নিয়োগপত্র হাতে পেলেও তার নাম চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে এখন ন্যায়বিচার ও নিজের মেধার মূল্যায়নের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই ভুক্তভোগী তরুণ।
ভুক্তভোগী ফয়জুল আলম জানান, তিনি পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় পুরো পরিবার তার ওপর নির্ভরশীল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার অদম্য বাসনায় তিনি বেসরকারি চাকরি ছাড়লেও কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র না আসায় তার পুরো পরিবার আজ বিপর্যস্ত। তার ভাষায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম তাকে জানান যে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তার বিরুদ্ধে নেগেটিভ বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অথচ তিনি বা তার পরিবার কখনই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা অপরাধমূলক মামলার রেকর্ডও নেই। এর আগে তিনবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত ধাপে বাদ পড়ার পর এবার মেধার জোরে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এমন ‘অদৃশ্য কারণে’ বঞ্চিত হওয়া তার জীবনকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি চাকরিতে বয়সের সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় এই নিয়োগবঞ্চিত তরুণ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও শিক্ষামন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাদ পড়া প্রার্থীর সততার সাক্ষ্য দিয়ে বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন জমাদার বলেন, ফয়জুল আলম ও তার পরিবার সম্পূর্ণ নির্দলীয় এবং নিম্নবিত্ত। পড়াশোনা শেষ করে সে লালমোহন উপজেলা শহরে একটি অ্যাকাডেমিতে সততার সঙ্গে চাকরি করত এবং মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও তাকে যেভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ভোলা জেলায় লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন শিক্ষক ভেরিফিকেশন জটিলতায় বাদ পড়েছেন। ওই চার শিক্ষকের যাবতীয় নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অধিদপ্তর থেকে পরবর্তীতে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করে দ্রুত এই হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ভুক্তভোগী ফয়জুল আলমের নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী।