নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন প্রাপ্তি নিয়ে কিছুটা বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পৃথক প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন না থাকলেও হিসাব পদ্ধতির জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতন পেতে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় গড়াতে পারে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাধারণ স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব কম্পিউটারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা হলেও, এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের হিসাব এখনো হাতে-কলমে করতে হয়। হিসাব পদ্ধতির এই দৃশ্যমান পার্থক্যের কারণেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বাদ দিয়ে কেবল স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আগে নতুন পে-স্কেলে বেতন দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেহেতু সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাই সবাইকে একসঙ্গেই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট করেছিলেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সরকারি নিয়মে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন প্রদান করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। যার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এমপিওভুক্ত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সামান্য সক্ষমতা থাকলেও, সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানেরই সেই অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই। ফলে এই বিশাল শিক্ষক সমাজের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।