জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাসেল মিয়া নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত রাসেল মিয়া মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ বুরহান স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাসেল মিয়াকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ না রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার দিবাগত রাত একটা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী ও বীর নাদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এ সময় ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাসেল মিয়াসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২ জুলাই থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকা থেকে মোট ২৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ছয়টি, আগস্ট মাসে ১৭টি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। চুরি হওয়া এসব ট্রান্সফরমারের অধিকাংশই বালিজুড়ী ও জোড়খালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে উধাও হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা।
সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও ফৌজদারি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো অপকর্মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।