বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূলের সাথে মতবিনিময়ের প্রস্তুতি

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকি করতে রোববার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবতরণের পর সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মাঝে নবনির্মিত গৃহের চাবি হস্তান্তর করবেন। এরপর তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামীর আমীর মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরবর্তীতে হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় পৌঁছে তিনি প্রয়াত আমীর আল্লামা আহমদ শফি ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন। বিকেলে হাটহাজারীর পার্বতী স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর উপহার দেবেন তিনি।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সরকার কেবল ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ না থেকে টেকসই পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা বিএনপির গণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ। রাতে নগরীর একটি হোটেলে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি দলীয় ঐক্য ও আগামীর পথচলা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। দলীয় প্রধানের সরাসরি সান্নিধ্য ও পরামর্শ স্থানীয় পর্যায়ে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য সুসংহত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তিনি। অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় শীর্ষ নেতারা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত প্রতিটি ঘর ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের। দুটি কক্ষ ও একটি শৌচাগার বিশিষ্ট এসব ঘর নির্মাণকাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে পুরো এলাকায় সাজসজ্জার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
