মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চাহিদায় বড় ধাক্কা দিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা

দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ—সিপিডি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে রাত ১২টার পরও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকছে, যার একটি বড় অংশের নেপথ্যে রয়েছে এসব যানবাহনের রাতব্যাপী চার্জিং ব্যবস্থা।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাধারণত সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়কে বিদ্যুতের পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু এখন মধ্যরাতেও বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকছে, কারণ সারাদিন চলার পর অসংখ্য ব্যাটারিচালিত রিকশা একসঙ্গে চার্জে বসানো হচ্ছে। এই যানবাহনগুলোকে তিনি ‘গরিবের টেসলা’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, এ ধরনের চার্জিং সংযোগের সিংহভাগই অবৈধ বা অননুমোদিত।
অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা প্রায়ই বাধার মুখে পড়ছেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানের পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি না করেই এই নির্ভরতা বাড়ানোয় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং দুটি এফএসআরইউর পরিবর্তে চারটি থাকলে পরিস্থিতির উত্তরণ সহজতর হতো বলে তিনি অভিমত দেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান সংকটকে সাময়িক উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল আসার কথা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর। সিপিডির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি ১২০০ থেকে ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এলএনজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উক্ত সভায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
