সুনামগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত স্থবির শিক্ষা ও ব্যবসা বাণিজ্য

প্রচণ্ড দাবদাহ এবং অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের জনজীবন। শহরাঞ্চলে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার লুকোচুরিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও গ্রামঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, দিনে ও রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটছে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই চরম সংকটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাজপথে মিছিল বের করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সেবার মান তলানিতে ঠেকলেও মাসের শেষে পুরো বিল পরিশোধের চাপ দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভুতুড়ে বিলের কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তাহিরপুর এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান জানান, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। গভীর রাতে সামান্য সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও আবার ভোরের আগেই তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দিনের বেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং আর সন্ধ্যার পর অন্ধকারের কারণে শিশু ও বয়স্করা প্রচণ্ড গরমে চরম কষ্ট ভোগ করছেন। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যুতের এই দৈন্যদশা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। সদর উপজেলার বানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল হক জানান, শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড গরমে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক লাল মিয়া জানান, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ জানান, জেলায় প্রতিদিন ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র সাড়ে ৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কম হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম তাপস কুমার পাইন জ্বালানি সংকটকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
