শরীরে দুই বুলেট নিয়ে চিকিৎসার অপেক্ষায় জুলাই আন্দোলনের আহত শিহাব

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আরাফাত হোসেন শিহাব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো সরকারি আহতের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার শাহ আলী থানার সামনে তীব্র আন্দোলনের মুখে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার শরীরের পিঠ, ঘাড় ও কোমরের বিভিন্ন স্থানে ৪৭টি বুলেটের স্প্লিন্টার ও ছররা বিদ্ধ হয়, যার মধ্যে দুটি বুলেট এখনো তার শরীরে রয়ে গেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিহাবের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বুলেট দুটি গেঁথে থাকায় অস্ত্রোপচার করতে গেলে স্থায়ী শারীরিক জটিলতার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থনৈতিক সংকটে তা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। শরীরে গেঁথে থাকা বুলেটের যন্ত্রণায় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না এবং ঘাড়ের স্নায়ুতে অনুভূত ঝিনঝিন কষ্টের কারণে তার দৈনন্দিন জীবন ও পড়াশোনা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
শিহাবের মা মোহছেনা বেগম জানান, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে গ্রামে থেকে শহরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু আন্দোলনে শিহাবের আহত হওয়ার পর সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বর্তমানে অনার্সে অধ্যয়নরত শিহাবের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়ে বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় থাকা বাবা মাহাবুব হাক্কানী পরিবারের জমানো শেষ সম্বলটুকুও ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করে নিঃস্বপ্রায়।
ভুক্তভোগী পরিবারটি সরকারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। তালিকাভুক্ত হতে পারলে সরকারি সহায়তায় শিহাবের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো বলে মনে করছেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় অসহায় পরিবারটি দ্রুত আহতের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
