দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অনলাইনে মিলবে টিকিট

দেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল ও রক্তিম অধ্যায়কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আজ বৃহস্পতিবার থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। ঐতিহাসিক এই স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য এখন থেকে দর্শনার্থীদের অনলাইনে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাদুঘরে সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক টিকিট বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আগ্রহী দর্শনার্থীদের ‘জুলাই ৩৬’ নামক নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজেদের সুবিধামতো তারিখ ও সময় নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে টিকিট বুকিং সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত সময়েই কেবল জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ মিলবে।
টিকিট মূল্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই পরিদর্শনের পরিকল্পনা করতে পারছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত এই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে শহীদদের আত্মত্যাগের বিবরণ, গুম ও নির্যাতনের অকাট্য দলিল, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন প্রতীকী স্থাপনা। এছাড়া বিভিন্ন গ্যালারিতে বিগত দেড় দশকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও আন্দোলনের বিভিন্ন নথিপত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মিত শহীদদের স্মরণে প্রতীকী কবর এবং আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্তের ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য, এক রিকশাচালকের অকুতোভয় সালাম জানানোর মুহূর্ত এবং শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠির প্রতিরূপ দর্শনার্থীদের আবেগঘন করে তুলছে।
