চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড ও অফডক থেকে খালি কনটেইনার সরানোর উদ্যোগ এনবিআরকে চিঠি

চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা ও ইয়ার্ডের জট নিরসনে বন্দরের ভেতর ও অফডকগুলোতে জমে থাকা খালি কনটেইনারগুলো বাইরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে জনানো হয়, বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে ৩৩ হাজারের বেশি কনটেইনারের মধ্যে তিন হাজারেরও বেশি খালি পড়ে আছে, যা বন্দরের ইকুইপমেন্ট মুভমেন্টসহ সার্বিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানি করা পণ্যের বড় একটি অংশ খালাস হওয়ার পর প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খালি কনটেইনার তৈরি হয়। কিন্তু বন্দর থেকে সরানোর গতির চেয়ে কনটেইনার জমার হার অনেক বেশি হওয়ায় ইয়ার্ডগুলোতে কৃত্রিম স্তূপ তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও নন-বন্ডেড এলাকায় খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি দিলে বন্দরের অপারেশনাল ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে। বিষয়টি এর আগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর এনবিআরকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে কাস্টমসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালি কনটেইনারগুলো বন্ডেড পণ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি অনুযায়ী এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সীমানার বাইরে এসব কনটেইনার রাখলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতার কারণেই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সেক্রেটারি রুহুল আমিন শিকদার এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে অফডকগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা খালি রয়েছে এবং নতুন দুটি অফডক যুক্ত হলে ধারণক্ষমতা আরও বাড়বে। শতাধিক শিপিং এজেন্টের জন্য আলাদাভাবে কনটেইনার রাখার ব্যবস্থা করা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে দ্রুত একটি টেকসই ও সমন্বিত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
