মুন্সীগঞ্জ জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এক মাসেই সর্বোচ্চ ৯৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৩৪ জনে। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শুরুতে সংক্রমণ কম থাকলেও জুন মাস থেকে তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চলতি বছর জানুয়ারিতে ২৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৩ জন, মার্চে ২১ জন, এপ্রিলে ৪৮ জন, মে মাসে ৪৪ জন, জুনে ১৭২ জন, জুলাইয়ে ৫৫৬ জন, আগস্টে ৯১৪ জন এবং সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৯৩৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত শুধুমাত্র এই হাসপাতালেই ২ হাজার ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮০ জন, শ্রীনগরে ১১৫ জন, টংগিবাড়ীতে ৭৩ জন, লৌহজংয়ে ৫৩ জন এবং গজারিয়ায় ১৩৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ জন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কোনো বিছানা খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দার ফ্লোরে বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের সরদারপাড়া এলাকা থেকে আট বছরের নাতনি জান্নাতকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মাসুদা বেগম জানান, স্থানীয় এলাকাতেই মশার কামড়ে নাতনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে, তবে হাসপাতালে এসে শয্যা পাওয়ার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে মুন্সীগঞ্জে ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বৃদ্ধ আবু তালেব ও মিরকাদিমের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওমর হোসেন জানান, তীব্র জ্বর ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে শরণাপন্ন হয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম জানান, ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরণের জটিলতা এড়াতে সামান্য জ্বর অনুভূত হলেই দ্রুত হাসপাতালে এসে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।